Thursday, April 3, 2025

রাজবাড়ীতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আয়োজনে সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীতে “নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সকাল সারে ৯ টায় রাজবাড়ী ইসলামিক ফাউণ্ডেশন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজবাড়ী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো: আসিফুর রহমান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের উপ-পরিচালক এস.এম. হাফিজুর রহমান ও সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রহমত আলী।

সেমিনারে মসজিদের ইমাম ও পুরোহিতসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ৫০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ আসিফুর রহমান, বলেন, শাক-সবজিতে কীটনাশক, বালাইনাশকের ব্যবহার কমানো বা ব্যবহারের পর বাজারে আনার আগে ৭-১৫দিনের অপেক্ষমান সময় মেনে চলা; গরু, মুরগী, মাছ চাষে এন্টিবায়োটিক হরমোন ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা; বিশুদ্ধ খাবার পানি গ্রহণ; পোড়া তেলে ভাজাপোড়া পরিহার করা; লেখাযুক্ত কাগজে খাদ্যপণ্য বিক্রি পরিহার করা, অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হয় এমন খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন; পোড়া ও ঝলসানো খাবার গ্রহনের সময় সাবধানতা অবলম্বন; বাদাম-ভূট্টাতে মাইকোটক্সিন; রান্নার পাত্র, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাদ্য বা অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ না করা, নন ফুডগ্রেড রঙ ও সুগন্ধি (গোলাপ জল, কেওড়া জল) ব্যবহার পরিহার করার বিষয়ে খাদ্য ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন করার বিষয়ে আলোচনা করা হয় এবং সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের আহ্বান জানানো হয়। তিনি আরো বলেন, ভোক্তাদের সচেতন হতে হবে এবং অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদন পরিলক্ষিত হলে ১৬১৫৫ নম্বরে কল করে অভিযোগ প্রদানের আহ্বান জানান।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রহমত আলী বলেন, দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের বিকল্প নাই। আমরা সাধারণত বাজার লবণ ব্যবহার করা যা আয়োডিন যুক্ত কিন্তু উক্ত লবণ খোলা পাত্রে রাখা হলে তা থেকে আয়োডিন উড়ে যায় তাই ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে এবং যেসব দোকানে আয়োডিনবিহীন লবণ ব্যবহার হয় তাদের আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে কারণ আয়োডিন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে প্রয়োজনীয়। তিনি সকলকে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে সচেতন হওয়ার ও নিজেদের আশেপাশে সকলকে সচেতন করে তুলার আহ্বান জানান।

ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের উপপরিচালক এস. এম. হাফিজুর রহমান বলেন, একটা সমাজে সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সমাজের উপর একটা প্রভাব থাকে। আমরা ধর্মের বিধিনিষেধ পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি এবং ধর্মীয় নেতাদের শ্রদ্ধা করি, তাদের পরামর্শ মেনে চলি। আজকের এই সেমিনার হতে অর্জিত জ্ঞান আপনাদের মাধ্যমে জেলার আনাচে-কানাচে সকল ভোক্তার কাছে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক জ্ঞান ছড়িয়ে পড়ুক, খাদ্য ব্যসায়ীদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির ধর্মীয় গুরুত্ব উপস্থাপন করে সচেতন করতে হবে। আমরা সকলে মিলে একসাথে সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারবো এই আশা রাখি।”

সর্বশেষ পোষ্ট

এই ধরনের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here