Monday, February 6, 2023

চারশ বছরের পুরনো- পন্ডিত বাড়ী

নেহাল আহমেদ, রাজবাড়ী:  রাজবাড়ী সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের এই বাড়ীটা অনেকের আগ্রহের জায়গা। প্রায় চারশ বছরের পুরনো এই বাড়ীটা চব্বিশ পরগোনার জমিদার বিধু ভুষন চৌধুরীর আরেকটি ষ্টেট।বিধু ভুষন চৌধুরী সম্পর্কে তেমন কিছু জানা না গেলেও তিনি হাতি ব্যবহার করে এসলাস করতেন এবং তার স্বাক্ষরিত কাগজে ফাঁসি হতো এই বিষয়ে তার পরবর্তী বংশধররা জানেন।

বিধু ভুষনের চার পুরুষ পর ভুষন চৌধুরী যখন জমিদারের দায়িত্ব ছিলেন তখন তিনি এখানে একটা পাঠশালা তৈরি করেন।ভুষন চৌরুরী ছিলেন মাইনর পাশ।তখন বৃটিশ সরকার শিক্ষার সম্প্রসারণের জন্য তাকে পন্ডিত উপাধি তে ভুষিত করেন।সেই থেকে এই বাড়ীটির নাম হয় পন্ডিত বাড়ী। ১৯৭১ সালে পন্ডিত বাড়ীতে ব্যাপক লুটপাট করে সব কিছু ধ্বংশ করা হয়।হারিয়ে যায় অনেক মুল্যবান সম্পদ ।বংশ তালিকার ঠিকুচি সহ তাদের পরিচয়ের মুলবান দলিল।

ভুষন পন্ডিতের চার পুরুষ পর তার পরবর্তী প্রজন্ম নারায়ন চন্দ্র পন্ডিত( এখন তার বয়স পচাঁত্তর) স্মৃতিচারণ করতে এ সব তথ্য জানান।পন্ডিত বাড়ী যে জমিদারের চিহ্ন বহন করে তার প্রমান স্বরপ তিনশত বছরের পুরনো মন্দির। হাতি থাকার ঘর এবং সেই সময়ের পরী খাট( বর্তমানে বাংলাদেশের যাদুঘরে সংরক্ষিত) কালের স্বাক্ষী হয়ে এখনো বিদ্যমান।পরী খাট তৈরি করতে তখন ভারত থেকে কাঠ এবং ছয়জন মিস্ত্রি ছয় মাস ধরে তৈরি করেন।খাট নিয়ে অনেক কল্প কাহিনী রয়েছে।সেই খাটে কেহ ঘুমাতে পারতো না।

পরীরা ব্যবহার করতো বলে খাটের নাম হয়েছে পরী খাট।জমিদারের হাতির গেইট,হাতি স্নানের পুকুর এখনো বিদ্যামান।জমিদারের হাতির নাম ছিলো পবণ পিয়ারী সকালে ফলমুলের সাথে একমন মিষ্টি নাস্তা এবং দুপুরে একমন চালের ভাত খাবার দেয়া হতো( পবণ পিয়ারী হাতির দাতঁ এখনো সংরক্ষন করা আছে) দেশ ভাগের সময় ভুষন পন্ডিতের বংশ ধররা ভারতে চলে যায়। বর্তমানে চারশ বিঘার বাড়ীটার বেশী জায়গা অন্যের দখলে চলে গেছে।তাদেন বংশ ধরেরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসত করার বাড়ীটি এখন ভুতুরে অবস্থায় পড়ে আছে।

প্রাচীন কাল থেকে রাজবাড়ী জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য অনেকটাই সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে।কয়েক দিন পর হয়তো পন্ডিত বাড়ীর ইতিহাস ও হারিয়ে যাবে কালের কালান্তরে।অথচ এই সব ইতিহাস ঐতিহ্য আমাদের গৌরব হতে পারতো।(ব্যবহৃত ছবিতে রাজকুমারের আকাঁ হাতির ঘরের গেইট, জমিদারের বংশ ধর নারায়ন চন্দ্র পন্ডিত এবং পবণ পিয়ারী হাতির দাতেঁর অংশ বিশেষ)।

০৩-১২-২০২২

সর্বশেষ পোষ্ট

এই ধরনের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here